মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ফাহিম

১২ নভেম্বর, ২০২০ ১১:১৪  
অনন্ত যাত্রায় পাড়ি দিলেন শারীরিক অক্ষমতার কছে হার না মানা ফ্রিল্যান্সার ফাহিম উল করিম। বুধবার দিবাগত রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেছেন,
দৃঢ় মনোবল ও ইচ্ছাশক্তি দিয়ে নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছিলেন ফ্রিল্যান্সার ফাহিম উল করিম। তার মৃত্যুতে আমারা শোকাহত। মহান আল্লাহ্‌ পাক তাকে জান্নাতবাসী করুন। সেই সাথে তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
শোক জানিয়েছে ফাইবার কমিউনিটি। ফেসবুক শোক বার্তায় কমিউনিটর পক্ষ থেকে দেয়া পোস্টে বলা হয়েছে- “ফাইভার কমিউনিটি লিডার, একজন গ্রাফিক ডিজাইন ফ্রিল্যান্সার, মেন্টর এবং হাজারো ফ্রিল্যান্সারদের অনুপ্রেরণার নাম ফাহিম উল করিম আর আমাদের মাঝে নেই। তার এই অকাল মৃত্যুতে শিখবে সবাই পরিবার মর্মাহত। মহান আল্লাহ্‌ তাআলা তাকে জান্নাতবাসী করুক। ফাহিম রা কখনো হারিয়ে যাবে না, সকলের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে চিরকাল “
 
ফাহিম উল করিমের বাড়ি মাগুরা শহরের মোল্যা পাড়া এলাকায়। জানা গেছেস বুধবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুরে নেয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডুচেনে মাসকিউলার ডিসট্রফি (ডিএমডি) রোগে ভুগছিলেন ফাহিম। ফাহিমের বাবা রেজাউল করিম একটি বেসরকারি কোম্পানির বিপণন কর্মী। তিনি জানান, মাগুরা শহরে ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তিনি বসবাস করে আসছিলেন। টানাটানির সংসার হলেও ভালোই কাটছিল তাদের দিন। একমাত্র ছেলে ফাহিম ২০১২ সালে জেএসসি পরীক্ষার আগে হঠাৎ শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে। বিরল এক রোগে ফাহিমের গোটা শরীর অচল হয়ে যায়। শুধু মাথা ও ডান হাতের দুটি আঙুল সচল ছিল তার। সেই দুই আঙুলের সাহায্যে ল্যাপটপ নিয়ে বিছানায় শুয়েই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের পথ করে নেন তিনি। এক পর্যায়ে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনেন ২২ বছর বয়সী এই তরুণ।   কাজের দক্ষতার কারণে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সার ফাহিম বিশ্বের ৩০ থেকে ৩৫টি দেশের কাজ করতেন। অর্ডার এত বেশি ছিল যে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সময় দিলেও কাজ শেষ হত না। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করে গত চার বছর ধরে ফাহিম মাসে গড়ে ৫০ হাজার টাকা করে আয় করেছেন। তার উপার্জনে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরে। বোনের লেখাপড়াও চলছিল।